ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে—“Logical Fallacy”—অর্থাৎ এমন একটা কথা, যা দেখতে-শুনতে খুবই বুদ্ধিদীপ্ত মনে হয়, কিন্তু আসলে পুরাই ধোঁকাবাজি। বিএনপি এই মুহূর্তে যা করছে, সেটা এর চেয়ে বেশি কিছু না। সকাল-বিকাল ‘নির্বাচন, নির্বাচন’ আর 'নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ পরিবর্তন আসবে না' জপেই যাচ্ছে, যেন জনগণ নামের এক মহাজাগতিক প্রাণীর হাতে ক্ষমতা তুলে দিলেই দেশের ভাগ্য বদলে যাবে!
আরও পড়ুনকাক যতই ময়ূর হতে চাইয়া পাছায় সুপার গ্লু দিয়ে পালক চিপকাক, সে কাকই থাকে। ময়ূর হয় না। নিখিল বাঙ্গু দেশের শাহবাগী, চেতনবাদী, টিপবাদী, কূৎসিত ভুটকি ফ্যমিনিস্টবাদীরা সবসময়েই দেখি ময়ূর হইবার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। যেহেতু এরা দেখসে দুঃখ-কষ্ট পাইলে বৈদিশিরা মোমবাত্তি ধরায়া চুপচাপ বসে থাকে, এদের মনে হইসে আমাদেরও অতি অবশ্যই মোমবাত্তি জ্বালাইতে হইবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কারবার এইটা!
আরও পড়ুনএই ভারতবর্ষে পহেলা বৈশাখ কোনকালেই আনন্দময় কোন উৎসবের কোন দিন ছিল না। জমিদাররা এই দিনে পুণ্যাহ করতেন। পুণ্যাহ হচ্ছে জমিদারের খাজনা আদায়ের উৎসব। প্রজাদের পেটে পাড়া দিয়ে খাজনা আদায় করা হবে সেটা বোধ করি প্রজাদের জন্য সুখকর কিছু না।
আরও পড়ুনকাবার গিলাফটা মুঠো করে আঁকড়ে ধরলেন আবু জাহেল। তীব্র কন্ঠের দুআ-- “হে কাবা ঘরের রব্ব! যদি মুহাম্মদের ধর্ম মিথ্যা হয়ে থাকে তবে তাদের ধ্বংস করে দাও অথবা আমরা যদি মিথ্যার উপর থাকি তবে আমাদের ধ্বংস করে দাও।" যুদ্ধ শুরু হলো। ভয়ংকর এক যুদ্ধ। স্থান মক্কা থেকে ১২০ আর মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরের মধ্যবর্তী একটি স্থান, বদর। মুসলিমদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন সরাসরি মুহাম্মাদ(সা.)। তাঁর সাথে সৈন্য সংখ্যা ৩১৩। উট ৭০ এবং ঘোড়া মাত্র দুটি। অপরদিকে অমুসলিমদের সেনাপতি উতবা বিন র…
আরও পড়ুনবিজ্ঞান আমাদের বলে দিতে পারে কেন প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টি হয়। বলে দিতে পারে এর উৎপত্তি কোথায়, কোথা থেকে কোথায় ঠিক কত বেগে আঘাত হানবে। আচ্ছা, এই জানাটাই কি সব? যদি সব হয় তাহলে একটা ভূমিকম্প কেন ঠেকিয়ে দিতে পারে না মানুষ তার সর্বশক্তি দিয়ে? কিংবা একটা ঘূর্ণিঝড়?দাবানল?
আরও পড়ুনকোনো ঘটনা শোনা বা পড়ার সাথে সাথে সেটা ভিজুয়ালাইজ করতে পারার ক্ষমতা আমার বাড়াবাড়ি পর্যায়ের। চোখের
সামনে দৃশ্যগুলো টপাটপ কল্পনা করতে থাকি। অনেকটা থ্রিলার মুভির মত। সাঁই সাঁই...
সেদিন যখন জনৈকা ছাত্রনেত্রী অন্য এক ছাত্রীর পায়ের রগটা কচ করে ক্ষুর দিয়ে কেটে দিলেন তখন আমি গভীর
মনোযোগে দৃশ্য টা কল্পনা করার চেষ্টা করলাম-- আচ্ছা, কাটার সময় মেয়েটার মুখভঙ্গিটা কেমন ছিল? ব্লেড কিংবা
ক্ষুর দিয়ে মাখন কাটার মতো মাংস পোঁচ দিয়ে দুভাগ করার সময় ঠিক কতটা
"হ্যাল্লোওও... এত্ত জ্যাম, সব স্ট্যাক হয়ে আছে। নড়তে পারছি না একটা ফোটা। তুমি টেনশন করো না তো, আমি আসতেসি"।
পাঠাও ড্রাইভার তার হাসপাতালে ভর্তি স্ত্রীকে আশ্বাস দিচ্ছেন। মিথ্যা আশ্বাস। এই রাত ১২.৩০ এ তিনি বাইক রাইড দিতে বের হয়েছেন জানলে তার স্ত্রী ক্ষেপে যাবেন।
এই মেয়েটাই হয়তো কোনো একদিন তুমুল ঝগড়ার ফাঁকে তার স্বামীর দিকে আঙ্গুল
খোসা ছাড়া আমের উপর মাছির বসে থাকা দেখিয়ে একজন ফেইসবুকার প্রমাণ করে দেখালেন— “ ধর্ষণের জন্য পোশাকই দায়ী।" ওপাশ থেকে নিশ্চিত উত্তরের অপেক্ষায় থাকুন—তাহলে দু বছরের শিশুটার কি দোষ ছিল? এধরণের আলোচনাগুলো আসলে ডিম আগে না মুরগী আগে টাইপের। অবান্তর। এইসময়ে নেভার এন্ডিং এসব বিতর্ক করাটা দেশ ও জাতীর সময় নষ্ট ব্যতিত আর লাভজনক কিছুই
ফেসবুকে বিকৃত মৃতদেহ দেখলে একটা সময় ভীত হতাম। কেমন যেন একটু দুর্বল হয়ে পড়তাম। চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠতো কখনো-সখনো। এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। ভোঁতা অনুভূতিগুলো ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ দেখে এখন আর তেমন একটা ব্যথিত হয় না। কৃত্রিম গ্লানিবোধ থেকে নিজেকে অনেকটাই মুক্ত করে নিয়েছি।
আদম(আ.) এর সময়ে কুরবানি কবুল হলে আকাশ থেকে আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিতো। কুরবানি করার সাথে সাথেই তাই রেজাল্ট হাজির-- কার কুরবানি কবুল হলো আর কার হয়নি ফলাফল হাতেনাতে।
এখন কুরবানি হয় লাখে-হাজারে। আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা আমাদের দয়া করে গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তা না হলে এই অসততার বাজারে মানুষের কাছে ধরা খেয়ে যাবার ভয়ে কুরবানি দিতো ক জনে?
এখন কুরবানি হয় একে অপরকে বড় গরুর ঠাঁট দেখাতে; ফলাফল টা যদি হাতেনাতে সে সময়ের মতো পাওয়া যেত তাহলে নিজের ভন্ডামি আর অসততা প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে কু…
বিবাহের কথা উঠলেই আচমকা আমাদের ভাইয়েরা সব সাহাবী হয়ে ওঠেন। হৈ হৈ রব ওঠে-- এক সাহাবা স্রেফ কুরআন দিয়ে মোহর দিসেন। আজকালকার বেত্তমিজ দুনিয়া, ১০-১৫ লাখের নিচে কথাই নাই। বিবাহ কঠিন, অতি কঠিন! সমাবেশের বাকিরা মাথা নাড়েন-- ঠিক বলেছেন! ঠিক বলেছেন!
ইদানিং এসব শুনলেই আমি নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে জাজমেন্টাল হয়ে উঠি
আমার ফোনে কিছু মৃত মানুষের কন্টাক্ট নাম্বার আছে। নিয়মানুসারে সেগুলো ডিলেট করে আমার তাদের ভুলে যাওয়া উচিত। মৃত মানুষদের জন্য অপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই, তাদের সকল আপাত স্মৃতি জোর করে দূরে ঠেলাটাই মানব সন্তানের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি।
বহু নাস্তিক আর সংশয়বাদীরা মনে করেন শয়তানের সাথে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালার বিচারটা ঠিক ন্যায় সংগত হয়নি। ঠোঁট উল্টে তাদের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন— “কেবল মাত্র একটি ভুলের জন্য এত্ত বড় শাস্তি? ইবলিসের এত বছরের আমলগুলোর কোন মূল্য নেই? চির জাহান্নাম কেবল একটি ঘটনার জন্যই?” Devil worshipper দের শয়তান পুজার মূলেও এই প্রশ্ন বা সংশয়টি ই প্রধান।
ব্যাপারটার একটু সুরতহাল করা যাক।
২০০৪ থেকে '০৮ সাল। অন্য কোনো কাজ না পাওয়ায় তখন ট্যাক্সি চালাতাম।
একদিনের ঘটনা। আলেকজান্দ্রিয়ার রাস্তায় ছুটে চলছে আমার ট্যাক্সি। বাহিরে মৃদু-মন্দ বাতাস আর ক্যাসেট প্লেয়ারে বাজছে প্রিয় ক্বারী মিশরী-রাশিদ- আফাসির তিলাওয়াত। আমার অন্যতম প্রিয় সূরা। সূরা আল-হাদিদ। রাস্তার ধারে চোখ পড়লো, ষাটোর্ধ্ব একব্যক্তি। হাত নেড়ে ইশারা করছেন ট্যাক্সি থামাতে। গন্তব্য কারমুজ। কথা না বাড়িয়ে তাকে নিয়েই আবার ছোটা শুরু করল আমার হলুদ ঘোড়াটা।
মক্কাজুড়ে হইচই। আব্দুল্লাহর ছেলে নাকি নবী হয়ে গেছে, বলে বেড়াচ্ছে সে নাকি আল্লাহর রাসুল। মাথা খারাপ হয়েছে নিশ্চিত। আরে না! না! জিনে ধরছে মনে হয়। এহেন শত অপবাদ, গুজব আর মিথ্যারোপ যখন রসুলুল্লাহ(সা:) এর প্রতি চাপানো হচ্ছিল; ঠিক সে সময়টাতে বিমর্ষ, ভারাক্রান্ত রাসুল(সা:) এর সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম বয়স্ক মানুষ হিসেবে যে মানুষটা নির্দ্বিধায়, সন্তুষ্টচিত্তে শাহাদার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ছায়ার মত পাশে থেকে তাকে সাহাস জুগিয়ে গেছেন তিন হচ্ছেন-- আবু বাকর বিন আবু কুহাফা।
মানুষ হিসেবে আমার মন খুব একটা বড় আকৃতির না। ফলাফল- এই এক জীবনে তৈরি করা ভালোবাসার মানুষদের তালিকার সাইজ অতি ক্ষুদ্র। এ তালিকার মোটামুটি শীর্ষে অবস্থানকারী একজন মানুষ ছিলেন আমার নানু।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টির দিনগুলো আসলেই আমার গা শিউরে উঠে। সেদিনটাও ঠিক এমন ছিল। ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। হাসপাতালের কেবিনের সামনে অস্থির পায়চারি করছি আমরা। নানুর অবস্থার ক্রমশ: অবনতি হচ্ছে। যে ক্লিনিকে তিনি ভর্তি তাতে আইসিইউ নেই। রাস্তার অপরপ্রান্তের হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। ভোরবেলা, হাসপাতালের কাউকে …
ঈমান আনবার পর একজন মু’মিনের জন্য সবচাইতে জরুরি কাজ সালাত আদায় করা। সালাতের ফরয,ওয়াজিব,সুন্নাহ এবং সালাতের পূর্বাপর বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে যথাসম্ভব নির্ভুল পদ্ধতিতে আদায় করা একজন মু’মিনের জন্য বাঞ্ছনীয়।
এ লেখাটিতে এমন কিছু ভুল-ত্রুটির উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো মুসল্লিদের মাঝে অধিক লক্ষণীয়; এবং যেসব থেকে বেঁচে থাকা অতীব জরুরি। লেখাটিতে ফিকহি মতপার্থক্য এড়িয়ে কেবলমাত্র সর্বসম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
Social Plugin