নিশীথ,এমনও হতে পারতো, জীবনকে স্রেফ একটু সহজ করে দেখার জন্য একটা গভীর কালো রাতে তুমি আমি বেরিয়ে গেছি। রেলের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হেঁটে যাওয়া। উদ্দেশ্য বিশেষ কিছু না। স্রেফ একটা বোধ নিয়ে কিঞ্চিৎ এলোমেলোমি, কিছুটা পা ফেলা। একটা বেঞ্চিতে পাশাপাশি বসে মাঝে দুকাপ চা রেখে খুব প্রিয় দু-একটা লাইন ভেজে নেয়া-
One October morning, I felt how deeply a single month could change a life. I left behind what I had poured my heart into, yet a new life quietly began in the same breath. That October carried an ending I never imagined and a beginning I could not have plannedFrom that day on, whenever October comes, it feels like a turning tide. The wind whispers of endings and beginnings, of things lost and things found. October smells like calm, cold, and something bittersweet, beautiful y…
আরও পড়ুনদিনটা শুরু হয়েছিল এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে-- আকাশে রোদের দাগ, তার ফাঁকফোকর দিয়ে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা। যেন কেউ একসাথে দুটো গল্প বলতে চাইছে-- একটা উজ্জ্বল, আরেকটা ভেজা, স্যাঁতসেঁতে। দিনভর এই খেলা চলেছে; এই আলো এসে চোখ ধাঁধিয়ে দিল, আবার হঠাৎই কালিঝুলি মেঘ এসে সবটুকু আলোকে ঢেকে নিলো।
আরও পড়ুনসেদিন রাতে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ল একটা নিউজ- “আমরাই নাকি জোনাকি পোকা দেখার শেষ প্রজন্ম!” আমার মাথার ভেতর বারবার Grave of the Fireflies মুভির সেই বিখ্যাত লাইনটা ঘুরতে শুরু করলো- Why do fireflies have to die so soon?” মনে হলো-- কেউ যেন ধপ করে একটা দরজা বন্ধ করে দিল। আমার শৈশবের গ্রাম বাড়ির সেই মাঠ- বাঁশঝাড়-আঁধার আর বিস্ময়ভরা অদ্ভুত মায়ার জোনাক রাতগুলোর দরজা।
আরও পড়ুনইংল্যান্ডে দেখেছি, কেউ কোরবানির গরু চোখেও দেখে না- সরাসরি স্লটার হাউজে পেমেন্ট হয়, গোশত প্রসেস হয়ে বাসায় প্যাকেট পৌঁছে যায়। আরব দেশগুলোতেও নেই সেই উৎসবের চেনা হাঁকডাক। পশুর রক্ত, জবাই চোখেই দেখা যায় না। টার্কি কিংবা ইরান তো অনেক আগেই মুসলিম সংস্কৃতির অনেক রং মুছে ফেলেছে।
আরও পড়ুনআমার কাছে রমজান মানে ছিল বাতাসে ভেসে আসা এক অদ্ভুত মিষ্টি ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণে মিশে আছে অদ্ভুত বিষন্ন নস্টালজিয়া, শৈশবের সারল্য আর মসজিদের কার্পেটে লেপ্টে থাকা বাসি আতরের গন্ধ। আমাদের ছেলেবেলার রমজান আসত শীতের সময়, সে কি দূর্দান্ত শীত! প্রথম সেহরির সময় ঘুম ভেঙেই— যুবুথুবু ঠান্ডা হাওয়া, দূরে কোথাও ভেসে আসা আজানের সুর, আর রান্নাঘর থেকে আসা ডিম ভাজার আওয়াজ। আহা...
আরও পড়ুনগত এক সপ্তাহ ধরে মারাত্মক কাজের চাপ। মাথার ঘায়, কুত্তা পাগল অবস্থা! কিন্তু আমার কিছুই করতে মন চায় না। বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে জীবনে এরকম মৌসুমেরা আসে। মন চায় কিছুই না করে ঝিম মেরে বসে থাকি। আমার পায়ে শেকড় গজিয়ে যাক। মাথায় ডাল-পাতা। আমি বসে থাকি। ঝিম ধরে থাকি।
আরও পড়ুননিয়ম করে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। কদিনের তীব্র কাঠফাটা গরমের পর আসা এই নিয়মিত বর্ষনে প্রায় সবাই আপ্লুত। ডজনখানেক বৃষ্টিবিলাসী পোস্ট চোখে পড়লো ফেসবুকে। সারাদিন কাঁচ- কংক্রিটের বস্তিতে থেকে আমার আজকাল বৃষ্টিকে খুব একটা চেনা হয় না।
আরও পড়ুন
সুনয়না,
আরে কী হলো? হাসছো কেন?ধুর! হাসি থামাও তো।জানি বরাবরের মতোই ধরে ফেলেছো এই ঘন বরষা দেখামাত্রই তড়িঘড়ি তোমাকে লিখতে বসে গেছি। সবসময়ের মতোই হয়তো এটাও বলে বসেছো এতক্ষণে- "উফ, তুমি খুবই প্রেডিক্টেবল''। ইদানিং এই প্রেডিক্টেবিলিটির ঘেরাটোপে পড়ে নিজেকেই নিজের প্রায়ঃশই অসহ্য লাগে। করোনার আতঙ্কে অনলাইনে বাসার জন্য সকালে বেশ কিছু অর্ডার করেছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি দু বস্তা হাতে ডেলিভারির ছেলেটা বৃষ্টির মধ্যে জুবুথুবু দাঁড়িয়ে আছে। আমার মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেলো। সেই সাথে…
আমার জন্ম এক ভয়াবহ বন্যার সময়ে। চারদিকে অথৈ পানি। বর্তমানে যে দোতলা বাসাটায় আমরা থাকি তার দোতলার বারান্দা পর্যন্ত নৌকা নাকি চলাচল করতো। দোতলার বারান্দার গ্রিল কেটে বানানো হল ছোট পকেট গেইট। যাতায়াত চলতো এর মধ্য়ে দিয়েই।
আরও পড়ুনএ শহরে কিছু কাক রয়েছে। ক্ষুধার্ত কাক। মন খারাপ কাক। আনমনা বিচ্ছিরি কাক।
মাগরিব-আলোতে রাস্তার নোংরা চায়ের দোকানগুলোতে কখনও সখনও এরা ভীড় জমায়। কড়কড়ে কন্ডেসড মিল্ক আর চিনির সাগরে ভেসে যাওয়া বিচ্ছিরি চায়ের কাপে জমতে থাকে- বিষন্নতা।
পৌষের শীতে ক্লান্ত রিকশায় চেপে ঠোঁটে রুদ্রে লাইন ভাজে-- "আমি দুঃখগুলোকে টাকার মত একটা একটা করে গুণতে চাই।"
জুলাই-আগস্টের এই সময়টা আমার কাছে বছরের সবচেয়ে বিশ্রী সময় মনে হয়। গুমোট একটা আবহাওয়া চারদিকে। নিশ্বাসে গরম-বিচ্ছিরি একটা অনুভূতি। এই বাতাসহীন শহরে এমনিতেই ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আমরা মনকে প্রবোধ দিই; কিন্তু এই আগস্টে এসব মিথ্যে প্রবোধেও কাজ হয় না। অসহায়ের মত ঘটঘট করে ঘুরতে থাকা ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে মনটা
হঠাৎ হঠাৎ দিনগুলো কেমন অসহ্য রকমের বিরক্তিকর হয়ে যায়। এই যেমন আজকে। এই বিরক্তির দিনগুলোর নিয়ম হচ্ছে কোন কাজই ঠিক ঠাক মত হবে না। দুই যোগ দুই চার মেলাতে ক্যালকুলেটর টিপেও ভুল করে পাঁচ লিখে ফেলা হবে। উনত্রিশে পা দেয়া ঝরঝরে শরীরটাও কাজে সায় দেবে না। কাজের চাপ আর দুপুরের ক্ষুধার আধিক্যে মেজাজ তিরিক্ষি হতে হতে পাড়ি দেবে অনন্ত-নক্ষত্র-বিথী। কাছের মানুষগুলোর সাথে
"হ্যাল্লোওও... এত্ত জ্যাম, সব স্ট্যাক হয়ে আছে। নড়তে পারছি না একটা ফোটা। তুমি টেনশন করো না তো, আমি আসতেসি"।
পাঠাও ড্রাইভার তার হাসপাতালে ভর্তি স্ত্রীকে আশ্বাস দিচ্ছেন। মিথ্যা আশ্বাস। এই রাত ১২.৩০ এ তিনি বাইক রাইড দিতে বের হয়েছেন জানলে তার স্ত্রী ক্ষেপে যাবেন।
এই মেয়েটাই হয়তো কোনো একদিন তুমুল ঝগড়ার ফাঁকে তার স্বামীর দিকে আঙ্গুল
দুপুরে আচমকা আব্বার ভিডিও কল। খানিকটা হকচকিয়ে গেলাম। অফিস টাইমে ভিডিও কল দিয়ে আব্বা আমাকে কি বুঝাতে চান? ভয়ে ভয়ে কল রিসিভ করতেই দেখা গেল ওপাশে আমার ১ বছর ৭ মাস বয়সী কন্যা উৎসুক চোখে স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমাকে দেখা মাত্রই তার স্বভাবসুলভ গালে টোল ফেলে হাতের মুঠো খোলা-বন্ধ করতে করতে ডাকতে লাগলো-- "আব্বু আতো, আব্বু আতো।
সবকিছুর একটা শেষ আছে। জন্মের, প্রাণের, যন্ত্রণার, কষ্ট-দু:খ কিংবা সম্পর্কের। কিছু সমাপ্তি খণ্ডিত; ভাঙাচোরা সাময়িক। আবার কিছু চিরকালীন।
শেষটা যে যত ভালোভাবে মেনে নিতে পারে। সে ততটা সুখী। কষ্টের সময়গুলোর একটা পর্যায় থাকে। প্রথমটা অতি ধারালো, তীক্ষ্ণ; বুকটাকে ফালাফালা করে ফেলবার জন্য যথেষ্ঠ। এরপর সময়ের ব্যবধানে এই তীক্ষ্ণ কষ্টের ফলাটাই ভোঁতা হয়ে মুড়ি-মুড়কি হয়ে যায়। ক্রম:শ....ক্রমশ....
ফেসবুকে বিকৃত মৃতদেহ দেখলে একটা সময় ভীত হতাম। কেমন যেন একটু দুর্বল হয়ে পড়তাম। চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠতো কখনো-সখনো। এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। ভোঁতা অনুভূতিগুলো ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ দেখে এখন আর তেমন একটা ব্যথিত হয় না। কৃত্রিম গ্লানিবোধ থেকে নিজেকে অনেকটাই মুক্ত করে নিয়েছি।
রাতগুলো কেবল চুপচাপ নিরিবিলির অন্ধকারেরই নয়। কিছু কিছু রাত অপ্রাপ্তির নির্নিমেষ হিসেব নিকেষ আর চিন্তার ফড়িংটার ডানা ঝাপটানো দুর্দান্ত খেলা নিয়েও ব্যস্ত থাকে।
শীত শীত রাতগুলোতে ওপাশের পাতা পোড়ানো মন খারাপ করা গন্ধটা কীভাবে কীভাবে যেন একটা টানেলের ভেতর দিয়ে প্রতিটাদিন ছুটিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। অস্থির যন্ত্রণায় হাতড়াই। আজ যাওয়া যাবে না। একটা ইঞ্চিও না। কিছুতেই না। তবু যেতে হয়। স্মৃতিতে। স্মৃতি মানেই মনখারাপ করা কিছু ন্যাকা ন্যাকা
বাক্যালাপ।
আজকের ভালো লাগা মূহুর্তটা আগামীতে যখন গ…
লিখতে বসেছি। বহুদিন পর। ঔদাসিন্যের সময়গুলোতে লিখতে বসিনা অনেকদিন। ভুল হলো কোথাও? বসিনা? নাকি পারিনা? নিশ্চিত নই সত্যিই!
একজন বললেন, আপনার সাহিত্যভাব আছে, একটা পজেটিভ টাইপ উপন্যাস লিখে দেন। ছাপাই!
নিজের সাথেই নিজে যুদ্ধ করি
Social Plugin