নিশীথ,
এমনও হতে পারতো, জীবনকে স্রেফ একটু সহজ করে দেখার জন্য একটা গভীর কালো রাতে তুমি আমি বেরিয়ে গেছি। রেলের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হেঁটে যাওয়া। উদ্দেশ্য বিশেষ কিছু না। স্রেফ একটা বোধ নিয়ে কিঞ্চিৎ এলোমেলোমি, কিছুটা পা ফেলা। একটা বেঞ্চিতে পাশাপাশি বসে মাঝে দুকাপ চা রেখে খুব প্রিয় দু-একটা লাইন ভেজে নেয়া-
"তুমি স্থবির কোকিল নও? কত কোকিলকে স্থবির হ’য়ে যেতে দেখেছি,
তারা কিশোর নয়,
কিশোরী নয় আর;
কোকিলের গান ব্যবহৃত হ’য়ে গেছে..."
ওপাশ থেকে ডাক আসলো-- "ট্রেইন লেইট"। সেই ডাকে ব্যস্ততারা হুট করেই মিইয়ে গেলো। অনেকটা সেই লজ্জাবতী গাছগুলোর মত; নানুবাড়ীতে যাদের আমি এলোমেলো হাতের স্পর্শে নুইয়ে দিয়ে সবসময় গর্ববোধ করতাম।
একবার উত্থাল-পাতাল বন্যার সময় আমাদের বাড়ি থেকে নানুবাড়ি গিয়েছিলাম ছোট্ট ডিঙ্গিতে। আমি বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করলাম, এতটুকু বৈঠা দিয়ে পানি কেটে আমাদের ৭/৮ জন মানুষকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মাঝিটা। কি সুন্দর! কি সুন্দর! ছলাৎ ছলাৎ ছলাৎ!
এখন শহরজুড়ে মার্সিডিজ দেখি, অডি, ল্যন্ড ক্রুজার দেখি। তবু আমার মন পড়ে থাকে সেই পুরানো ডিঙ্গি নৌকায়।
নৌকাগুলো কেন যেন হারিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। হয়তো আগামীতে থাকবেও না। আচ্ছা মানুষের অনুভূতিগুলোও কি ঠিক এভাবে হারায়? আমাদের গ্রামের ঠিক তিন রাস্তার মোড়ে একটা বটগাছ ছিলো। এই গাছটাতে যে কিশোর ছেলেটা লাঠি দিয়ে একদিন কাটাকুটি খেলেছিল সে হয়তো আজ নেই। যে পথিকগুলো তার ছায়ায় ক্ষণিক আশ্রয় নিয়েছিলো, তারাও নেই। বটগাছটা ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে। কত মানুষ এমন বটের মত, দীর্ঘকাল দেখে চলে। তার চারপাশ বদলায়, মানুষ এমনকি তার নিজের মাঝেও পরিবর্তন আসে। সে তার শাখা-প্রশাখা মেলে ধরে বড় হয়। বার্ধক্য তাকে গ্রাস করে।
এই জীবনের পূর্ণাঙ্গ সফলতা কোথায়? নেপোলিয়ন বেনোফোর্ট যখন একের পর এক লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজ্য জয় করে চলছিলো। যুদ্ধ শেষে তার কি নিজের জীবনটাকে খুব পূর্ণাঙ্গ মনে হত? নিশীথ, তুমি কি এত তীব্র জীবনের পর চাও এরকম কর্পূরের মত উবে যাওয়া একটা সফলতা? নাকি খুব সহজ কিছু, যেমন- প্রচন্ড বাতাসে দুলতে থাকা ঘাসফুল আর ঐ উড়ে যাওয়া ফড়িংটা দেখে কৈশোরের মত আনন্দে মুগ্ধতাপূর্ণ জীবন চাও?
এই যে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া সময়টাতে আমি একটা বটগাছ কিংবা ঘাসফুল হতে চেয়েছিলাম, সেটা কি খুব মন্দ কিছু ছিল? আমি আমার উন্মুক্ত ডাল-পালা ছড়িয়ে কারও আশ্রয় হতে চেয়েছিলাম। ছলাৎ শব্দের কারিগর হয়ে কারও কৈশোর কিংবা ঘাস ফড়িং এর রঙ হয়ে কারো মুগ্ধতা হতে চেয়েছিলাম। ফড়িং কে ভালোবাসে তার গায়ে ঢলে পরতে চেয়েছিলাম। হতে পারলাম কই?
শুধু আজ এই বেঞ্চি তে তোমার পাশাপাশি বসে বারবার একটা কথাই মনে পড়ছে- অন্য কোন নীলের বন্ধন কি জাগে অন্য কোথাও? অন্য কোন অন্তরে? কে জানে এই যে অহেতুক জীবন খুঁজতে তোমার আমার হুট করে বেরিয়ে পড়া। এর কি কোন শেষ কি আছে? আছে কোন গন্তব্য? কোন ঠিকানা কিংবা শেষের পংক্তি ?
- ইতি
আমি
এই লেখার একটা কাব্যিক নাম দাও। আর লেখার সাথে মিল রেখে একটা ছবি জেনারেট কর এবস্ট্রাক্ট
নিশীথ,
এমনও হতে পারতো, জীবনকে স্রেফ একটু সহজ করে দেখার জন্য একটা গভীর কালো রাতে তুমি আমি বেরিয়ে গেছি। রেলের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হেঁটে যাওয়া। উদ্দেশ্য বিশেষ কিছু না। স্রেফ একটা বোধ নিয়ে কিঞ্চিৎ এলোমেলোমি, কিছুটা পা ফেলা। একটা বেঞ্চিতে পাশাপাশি বসে মাঝে দুকাপ চা রেখে খুব প্রিয় দু-একটা লাইন ভেজে নেয়া-
"তুমি স্থবির কোকিল নও? কত কোকিলকে স্থবির হ’য়ে যেতে দেখেছি,
তারা কিশোর নয়,
কিশোরী নয় আর;
কোকিলের গান ব্যবহৃত হ’য়ে গেছে..."
ওপাশ থেকে ডাক আসলো-- "ট্রেইন লেইট"। সেই ডাকে ব্যস্ততারা হুট করেই মিইয়ে গেলো। অনেকটা সেই লজ্জাবতী গাছগুলোর মত; নানুবাড়ীতে যাদের আমি এলোমেলো হাতের স্পর্শে নুইয়ে দিয়ে সবসময় গর্ববোধ করতাম।
একবার উত্থাল-পাতাল বন্যার সময় আমাদের বাড়ি থেকে নানুবাড়ি গিয়েছিলাম ছোট্ট ডিঙ্গিতে। আমি বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করলাম, এতটুকু বৈঠা দিয়ে পানি কেটে আমাদের ৭/৮ জন মানুষকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মাঝিটা। কি সুন্দর! কি সুন্দর! ছলাৎ ছলাৎ ছলাৎ!
এখন শহরজুড়ে মার্সিডিজ দেখি, অডি, ল্যন্ড ক্রুজার দেখি। তবু আমার মন পড়ে থাকে সেই পুরানো ডিঙ্গি নৌকায়।
নৌকাগুলো কেন যেন হারিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। হয়তো আগামীতে থাকবেও না। আচ্ছা মানুষের অনুভূতিগুলোও কি ঠিক এভাবে হারায়? আমাদের গ্রামের ঠিক তিন রাস্তার মোড়ে একটা বটগাছ ছিলো। এই গাছটাতে যে কিশোর ছেলেটা লাঠি দিয়ে একদিন কাটাকুটি খেলেছিল সে হয়তো আজ নেই। যে পথিকগুলো তার ছায়ায় ক্ষণিক আশ্রয় নিয়েছিলো, তারাও নেই। বটগাছটা ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে। কত মানুষ এমন বটের মত, দীর্ঘকাল দেখে চলে। তার চারপাশ বদলায়, মানুষ এমনকি তার নিজের মাঝেও পরিবর্তন আসে। সে তার শাখা-প্রশাখা মেলে ধরে বড় হয়। বার্ধক্য তাকে গ্রাস করে।
এই জীবনের পূর্ণাঙ্গ সফলতা কোথায়? নেপোলিয়ন বেনোফোর্ট যখন একের পর এক লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজ্য জয় করে চলছিলো। যুদ্ধ শেষে তার কি নিজের জীবনটাকে খুব পূর্ণাঙ্গ মনে হত? নিশীথ, তুমি কি এত তীব্র জীবনের পর চাও এরকম কর্পূরের মত উবে যাওয়া একটা সফলতা? নাকি খুব সহজ কিছু, যেমন- প্রচন্ড বাতাসে দুলতে থাকা ঘাসফুল আর ঐ উড়ে যাওয়া ফড়িংটা দেখে কৈশোরের মত আনন্দে মুগ্ধতাপূর্ণ জীবন চাও?
এই যে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া সময়টাতে আমি একটা বটগাছ কিংবা ঘাসফুল হতে চেয়েছিলাম, সেটা কি খুব মন্দ কিছু ছিল? আমি আমার উন্মুক্ত ডাল-পালা ছড়িয়ে কারও আশ্রয় হতে চেয়েছিলাম। ছলাৎ শব্দের কারিগর হয়ে কারও কৈশোর কিংবা ঘাস ফড়িং এর রঙ হয়ে কারো মুগ্ধতা হতে চেয়েছিলাম। ফড়িং কে ভালোবাসে তার গায়ে ঢলে পরতে চেয়েছিলাম। হতে পারলাম কই?
শুধু আজ এই বেঞ্চি তে তোমার পাশাপাশি বসে বারবার একটা কথাই মনে পড়ছে- অন্য কোন নীলের বন্ধন কি জাগে অন্য কোথাও? অন্য কোন অন্তরে? কে জানে এই যে অহেতুক জীবন খুঁজতে তোমার আমার হুট করে বেরিয়ে পড়া। এর কি কোন শেষ কি আছে? আছে কোন গন্তব্য? কোন ঠিকানা কিংবা শেষের পংক্তি ?
- ইতি
নীল

0 মন্তব্যসমূহ