কষ+আলো ন্যারেটিভস

 


বাংলাদেশে কিছু মানুষের স্মৃতিশক্তি বড়ই অদ্ভুত। তারা ঘটনাকে মনে রাখে না, মানুষকে মনে রাখে। আবার কখনো মানুষকেও মনে রাখে না, শুধু শত্রু বেছে রাখে।

রস+আলো নামক এভারেজ মানের গার্বেজ স্যারকাস্টিক পত্রিকাটা ফিরে এসেছে। ভেবেছিলাম স্যারকাজম হবে, মজার জোকস থাকবে। কিন্তু এতে এসবের কিছুই নেই। বরং দেখা যাচ্ছে বিএনপির জয়জয়কার আর বাকি অন্য সবাইকে নিয়ে হুদাই তামাশা করে একটা নেগেটিভ ন্যারেটিভ তৈরিতে নেমেছে এই প্রফেশনাল চাটুকারেরা।
বনলতা এক্সপ্রেস বের হয়েছে অনেকদিন হয়ে গেছে। সেই সিনেমাকে কেন্দ্র করে এক জেলা শহরের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অজুহাতে এমন হইচই তৈরি করা হলো, যেন দেশের সমস্ত সাংস্কৃতিক সংকটের উৎস ওই একটি চলচ্চিত্র। দেশের সবাখানেই সমস্যা। অথচ একটা অতি উৎসাহী লোকের স্ট্যাটাস ব্যতিত অন্য তেমন কিছুই ঘটেনি।
মজার ব্যাপার হলো, ঘটনা ঘটেছে এক জায়গায়, দায় খোঁজা হচ্ছে আরেক জায়গায়। ঘটনা ঘটেছে এই মাসে, অর্থাৎ বিএনপি সরকারের আমলে, কিন্তু কার্টুনের নিশানা গিয়ে পড়ল ফারুকী, আর হাসনাতের উপরে। যারা এই ঘটনার সাথে কোনদিক দিয়েই রেলেভেন্ট নন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি দিতে সম্ভবত কলিজায় কুলাচ্ছিলো না প্রথম আলো নামক তেলাপোকা বাহিনীর।
আসল সমস্যা সিনেমা না, কার্টুনও না। সমস্যা হলো কিছু মানুষ এখনো জুলাইকে ভুলে যেতে রাজি না। কেউ লিখে রাখছে, কেউ বলে যাচ্ছে, কেউ দলিল বানিয়ে রেখে যাচ্ছে। ইতিহাসকে যারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তারা ইতিহাসের সাক্ষীদের কখনো পছন্দ করে না।
প্রথম আলোর সঙ্গে এই মানুষের দ্বন্দ্ব আজকের না। অনেক দিনের। এবং এই দ্বন্দ্বের শেষ হওয়ারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে, যারাই বাংলাদেশকে অন্য চোখে দেখে, অন্য ভাষায় ব্যাখ্যা করে, কিংবা কিছু প্রশ্ন করতে সাহস করে তাদের বিরুদ্ধেই ন্যারেটিভ তৈরি করে তাদের অপরাধী এরা বানিয়েই ছাড়বে; যদিও কোন দূরতম সম্পর্ক না থাকুক তাদের সাথে ঘটনার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ