ভাই ব্রাদার পডাকাস্ট সমিতি

 


এই দেশে একটা জিনিস খুব কনসিস্টেন্ট যা-ই শুরু হয়, বাঙালি সেটারে গু বানায়া ছাড়ে।

এইবার তার হাতে পরছে পডকাস্ট।
এক মাল দেখি সেদিন বসে মাইকের সামনে বলতেছে ওষুধ ইংরেজি ড্রাগ। ড্রাগ দিয়ে আমরা বাংলায় বুঝি 'নেশা' তার মানে সব ওষুধে নেশা আছে।
আমার মাথা হ্যাং খাইয়া গেল। ১০মিনিট চুপ খেয়ে গেলাম কারণ এই লেভেলের লজিকের সাথে তর্ক করা যায় না, শুধু সম্মান করতে হয়।
আরেকজন দেখি একটা তৃতীয় শ্রেণির বুদ্ধিসম্পন্ন লোকরে আইনা ফিলোসফি কপচাইতেসে। অধিকাংশ কথাবার্তা হইলো- 'জীবন আসলে লাইফ' এই কোয়ালিটির।
কোন অর্জন নাই, কোন অবদান নাই; কিন্তু সামনে মাইক পাইছে, জ্ঞান কপচানো শুরু।
ব্যাপারটা সম্ভবত এখন ভাই ব্রাদার কোটায় চলতেসে; একজন আরেকজনরে ফিসফিসাইয়া বলে- শোন! আজকা তুই আমারে ডাকবি, কালকে আমি তোরে ডাক দিব; ডাক ডাক বেলি খেলার মধ্য দিয়া আমরা দুইজনে একে অপররে দার্শনিক বানাব...ট্যাগ কইরা লাইক কামাব..ডলার আর ডলার...
এই দেশে পডকাস্ট করতে জ্ঞান থাকা লাগে না, মাইক থাকলেই চলে। মাইকের সামনে গিয়া চিবাইয়া চিবাইয়া বলতে হবে--
"Basically, আমি আসলে feel করি…”
“Actually, mindset টা change করতে হবে…”
“Literally, life is life…”
এই দেশে জ্ঞান থাকা জরুরি না, জ্ঞানী দেখানোটা জরুরি। মাইক সামনে রাইখা ভিডিও করলে শরীরের একটা ভাব আসে, মানুষ ভাবে সে কিছু একটা জানে। হুমায়ুন আহমেদের ভাষায়- "আপনারে দেখলেই বুঝা যায় আপনে অতি উচ্চশিক্ষিত.."
আগে মানুষ চুপ থাকতো বলে জ্ঞানী মনে হতো। এখন কথা বলে দেইখাই কট খায়। ভেতরের অবস্থাটা বের হয়ে যায়....
বাঙালির হাতে পডকাস্ট পড়ছে এবার আর রক্ষে নেই মাইরি....
এখন সে গু হাগবে। সে গুয়ের গন্ধে আমরা কবিরা কাব্য করব- গুয়ের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ