রাত ২টা ০১।
শহীদ হাদি চত্বর থেকে ফিরেই লিখছি।
রাত দশটার দিকে সেখানে পৌঁছাই। ডাকসুর মোসাদ্দেক তখন আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে স্লোগান তুলছে। কিছুক্ষণ পর জাবের এলো। চারপাশে তাকিয়ে বুঝলাম- এটা কোনো কর্মসূচি না, এটা প্রতিরোধ। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ব্যপক সংখ্যায় নারী। মা-খালাদের বয়সী মানুষ চোখে পড়ার মত।কনকনে শীত। পিচের ঠান্ডা রাস্তায় বসে সবাই। চুপচাপ নয়-গর্জে উঠছে।
একটাই দাবি—
হাদি হত্যার বিচার চাই।
জাবের ত্রিপল বিছাতে বলল। কয়েকটা কম্বল এলো। অচেনা মানুষ অচেনা মানুষকে ডাকল- "এদিকে আসেন।” কম্বলের নিচে গা ঘেঁষে বসল সবাই। সেই ভিড় থেকে উঠে এলো স্লোগান-"আমরা সবাই হাদি হব। গুলির নিচে কথা কব"।শ্লোগানে শ্লোগানে হাদি চত্বর মুখরিত।
আমার পাশে এক বাবা দাঁড়িয়ে। সঙ্গে পাঁচ-ছয় বছরের ছেলে। বাবা ছেলেকে জিজ্ঞেস করল- "বাবা, তুমি হাদি হবা?” ছেলেটা কিছু না বুঝেই মাথা নাড়ল। আমি তাকিয়ে রইলাম। রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ, সেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ মাথা নাড়াচ্ছে।
ওখান থেকে ডাকসু ভবনের দিকে গেলাম । ফেরার পথে হাদির কবরের সামনে থমকে গেলাম। গভীর রাতে প্রায় শ’খানেক মানুষ দাঁড়িয়ে মোনাজাতে। কেউ কথা বলছে না। এই নীরবতা ভয়ানক। এই নীরবতার ভেতর প্রশ্ন আছে, অভিযোগ আছে, রাগ আছে।
সাধারণ মানুষের ্নি:স্বার্থ ভালোবাসার এরকম কোন নিদর্শন এই দেশে এর আগে আমরা কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এই ভালোবাসার জন্য কোনো ব্যানার লাগে না, কোনো নির্দেশনা লাগে না। এই ভালোবাসা জন্ম নেয় অন্যায় থেকে। এই ভালোবাসার আদেশ আসে স্রেফ আসমান থেকে।
গতকাল থেকে ঠিক করেছিলাম স্রেফ পজিটিভ চিন্তা করব সবাইকে নিয়ে, কোন নেগেটিভিটি আর না। পারলাম না, আমার মনে পড়ে গেল সেই দিনটা, যেদিন-- এনসিপিকে গোপালগঞ্জে আটকে রাখা হয়েছিল। তখন এই হাদি একা মিডিয়ার সামনে এসে বলেছিল-
২৪ ঘণ্টার মধ্যে একশন না হলে শাউয়া-মাউয়া ছিঁড়া ফেলবে। এতটা বোল্ড স্টেটমেন্ট যাদের কে নিয়ে দিয়েছিলো হাদি সেদিন, তাদের আজকের অবস্থান কী? কি করলো তারা হাদির জন্য?
চৌদ্দ দিন পার হয়ে গেছে। বিচার নেই। খুনি কে- রাষ্ট্র সেটাও বলতে পারে না। হাদি জীবিত অবস্থায় যদি নাহিদদের কিছু একটা হত, এই হাদি নিশ্চিত ভাবে দুনিয়াদারীতে তোলপাড় লাগিয়ে দিত। সেখানে ইনকিলাব প্রোগ্রাম ডাক দিলে এসে চেহারা দেখিয়ে যাওয়াটাই সব?এর বাইরে কোন দাবি দাওয়া কার্যক্রম নেই?
ওদিকে বিএনপির বটবাহিনী সমানে গালিগালাজ, ট্রল করে যাচ্ছে নানা লোকের পোস্টে। তারা হিংসায় কোন এক অদ্ভুত কারণে মারা যাচ্ছে।
কারা দেশের পক্ষে, আর কারা শুধু ক্ষমতার পাহারাদার। দালালদের জিল্লতির জীবন কাদের কাছে শিরোধার্য এটা ক্রমশ: স্পষ্ট হয়ে পড়ছে।
আমরা সাধারণ মানুষেরা সব দেখলাম।
সবকিছু মনে রাখা হবে। সবকিছু মনে রাখা হবে.....

0 মন্তব্যসমূহ