ইউরো হাট ডায়েরি

 



ইউরো হাট… নামটা শুনলেই মনের মধ্যে নস্টালজিয়ার একটা দরজা খুলে যায়। ৯০ দশকের সেই চাইল্ডহুড ক্লাসিক রেস্টুরেন্ট- যেটা সময়, বিল্ডিং, মানুষ সবকিছু বদলে গেলেও কোনোভাবে ঠিক আগের মতোই থেকে গেছে। আনাম র্যাংস প্লাজার ওই ছোট্ট কোণটা ছিল আমাদের তারুণ্যের সেফহাউস। আমাদের ইউনিভার্সিটি লাইফে যে যত বড় গল্প বলার, হাসির, কষ্টের, বা হুটহাট আড্ডায় চলে আসার, সব পথই শেষমেশ গিয়ে থামত ইউরো হাটে।

এরকম অনবদ্য টেস্টের হট ডগ, লাইম অথবা আইসক্রিম সোডার বিকল্প এত বছর, এত জায়গায় খেয়েও পেলাম না।
আমার জীবনের অগণিত আড্ডা, অগণিত হাহাহি, আর কিছু নিঃশব্দ বিকেল; সবই জমে আছে এখানে স্থির হয়ে।
গতকাল দুপুরে একটা কাজে ওদিকে গিয়ে, লাঞ্চ টাইমে হুট করে ঢুকে গেলাম সেখানে, বহু যুগ পরে। হট ডগটা প্রথম কামড় দিতেই মনে হলো বছর পনেরো যেন পিছলে গেল কোথায়।
চেনা জায়গা, চেনা গন্ধ, ভিড়ের মধ্যে সেই পুরোনো দিনের মতোই একটা আপন উষ্ণতা।
সময় যে চলে যায় এটা সবাই জানে। কিন্তু কোথাও কোথাও সময় যেন থেমেও থাকে; এক মুহূর্তের জন্য হলেও পুরোনো দিনগুলোর স্মৃতিতে আমাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ইউরো হাটকে....
সময় পাল্টায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আর স্থান ঠিক একই মায়া আর অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকে। চিরটাকাল....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ